Untitled Document

ঢাকায় তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী

আজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা, কাল যাবেন রোহিঙ্গা শিবিরে

প্রকাশঃ মঙ্গলবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭    ১৫:৪৩
অনলাইন ডেস্ক নিউজ

তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিস তিনদেরন সরকারি সফরে গতকাল সোমবার রাতে ঢাকা এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে রোহিঙ্গা সংকট ও অন্যান্য ইস্যুতে আলোচনা করাই তার এই সফরের উদ্দেশ্য। আজ মঙ্গলবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন তুর্কী’ প্রধানমন্ত্রী।

তুরস্কের উপ প্রধানমন্ত্রী, উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী, উপদেষ্টাসহ ২১ সদস্যের সরকারি প্রতিনিধি দলকে নিয়ে গতকাল রাত পৌনে নয়টায় বিশেষ বিমানযোগে হজর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে এস পেঁছলে তুর্কী প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী। বিমান বন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি যান হোটেল সোনারগাঁও এ। সফরকালে তিনি এ হোটেলেই অবস্থান করবেন। আজ সকালৈ তিনি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু ভবনে শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণ করবেন। বিকালে তিনটায় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও একান্ত বৈঠক করবেন। এখানে ঢাকা ও সাংকারার মধ্যে দুইটি সমঝোতা স্মারক সই হবে। সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ করবেন। রাতে হোটেল সোনারগাঁও এ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নৈশভোজে অংশ নেবেন। আগামীকাল বুধবার সকালে বিমানযোগে কক্সবাজার যাবেন তুর্কী প্রধানমন্ত্রী। কুতুপালং এ রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে দুপুর দুইটায় কক্সবাজার থেকে সরাসরি অঙকারা ফিরে যাবেন।

গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে সেনাবাহিনীর অত্যাচারে আসা লাখ লাখ আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই সোচ্চার ভূমিকা নেয় মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী দেশ তুরস্ক। আশ্রত রোহিঙ্গাদের জন্য দফায় দফায় ত্রাণ ও মানবিক সাহায্য পাঠায় দেশটি। মন্ত্রী পর্যায়ের একাধিক নীতিনির্ধারক রোহিঙ্গাদের মানবেতর অবস্থান স্বচক্ষে দেখে যান। সর্বশেষ তুরস্ক সরকার আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জন্য ২৫ হাজার বাড়ি তৈরির প্রতিশ্রুতি দেয়। বাংলাদেশ সরকার তুরস্ক সরকারের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করে। বাংলাদেশ একই খরচে ৫০ হাজার রোহিঙ্গা পরিবারের জন্য ঘর তৈরির অনুরোধ করে। এতে আড়াই লাখ রোহিঙ্গার আবাস সংকট সমাধান হবে। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা, অভিবাসন সংস্থার মতো বিদেশী সংস্থাগুলো একই মান ও কাঠামোর ঘর তৈরি করবে।

তুরস্ক সরকার প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে দুইটি মোবাইল হাসপাতাল পাঠাবে। আশ্রিত রোহিঙ্গাদের চিকিত্সা ও স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া হবে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন এই হাসপাতাল থেকে। হাসপাতাল দুটি প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় বাংলাদেশকে অনুদান হিসাবে দেওয়া হবে।

তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিস বাংলাদেশ সফরের প্রক্কালে সোমবার আংকারায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, কয়েক লাখ রোহিঙ্গা অত্যাচার আর নির্যাতনের কারণে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বাংলাদেশ তাদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়নি। রোহিঙ্গাদের এমন কাঠিন সময়ে তুরস্ক বাংলাদেশের পাশে থাকবে।

সফররত তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদ্রিমের সাথে বৈঠক করবেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে এই বৈঠক হবে। বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ ও এনামুল হক চৌধুরী উপস্থিত থাকবেন। 

সদ্য সংবাদ